ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ , ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেব’—বিএনপি নেতাকে হুমকি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:৩৭:২৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:৩৭:২৭ অপরাহ্ন
‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেব’—বিএনপি নেতাকে হুমকি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার



শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এবার সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে প্রকাশ্যে ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর। এ বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।



রোববার সকালে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ হুমকি দেন আমান মাদবর। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আমান মাদবরকে বলতে শোনা যায়, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। জেলা বিএনপির নেতারা আশ্বস্ত করেছেন, দুই-এক দিনের মধ্যে টিপু মাদবরকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর তিনি বলেন, অপুর বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত শক্তিশালীই হোক, তার ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে শরীয়তপুরে অবাঞ্ছিত করা হবে।


এদিকে, আমান মাদবরের এমন বক্তব্যের পরদিন সোমবার রাতে স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে পাল্টা বক্তব্য দেন টিপু মাদবর। সেখানে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তার ছবি তৈরি করে পোড়ানো হচ্ছে। তাকে ঘিরে ঘাড় নামিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তবে গত ১৭ বছর তার নেতৃত্ব ছাড়া শরীয়তপুর শহরে কেউ মিছিল বের করার সাহস পায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

২০১৮ সালে দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে টিপু মাদবর বলেন, ওই সময় শফিকুর রহমান কিরণ, সাঈদ আহমেদ আসলাম ও কালু সরদারের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেদিন তিনি সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তাদের রক্ষা করেছিলেন বলেও দাবি করেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনটা যুদ্ধে কেটেছে, কেউ আমাকে যুদ্ধের হুংকার দেবেন না।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শরীয়তপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপনই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য; এতে তার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ ধরনের বক্তব্য দিইনি, আপনারা ভালো করে শুনেন।’ এ কথা বলার পরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে, হুমকির ভিডিও দেখেছেন জানিয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।


জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে টিপু মাদবরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচির পর জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

এর প্রতিবাদে ১ নভেম্বর সকালে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে টিপু মাদবরের বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর কাছে স্মারকলিপিও দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও প্রকাশ্যে হুমকির ঘটনায় শরীয়তপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ